প্রকাশিত: ১৬/০৯/২০১৭ ৮:১৩ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১:২৮ পিএম

শফিক আজাদ, উখিয়া নিউজ ডটকম::
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অভুক্ত রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যার্থে নিয়ে আসা ত্রাণ সামগ্রী উপজেলা প্রশাসনের কট্টোল রুমে জমা না দিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে সড়কের উপর গাড়ি থামিয়ে বিতরণ করার কারনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা দিকবেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে সড়কে। যার ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত গাড়ী চাপা পড়ে বালুখালী পান বাজার এলাকায় ২জন শিশু ও ১জন ২সন্তানের জননীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সড়ক যত্রতত্র ত্রাণ বিতরণের কারনে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দীর্ঘ ৮৪ কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে প্রতিনিয়ত। এতে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্র/ছাত্রী সহ দুরপল্লার যাত্রীরা চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে। স্থানীয় পথচারীদের দাবী প্রশাসন যদি তড়িৎ কোন পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে উখিয়া-টেকনাফ এলাকার ছাত্র/ছাত্রী,পথচারীরা ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরজমিন শুক্রবার উখিয়ার কুতুপালং নতুন বস্তি এলাকা টিভি রিলে কেন্দ্রের পার্শ্বে দেখা যায়, স্থানীয় একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে কিছু যুবক ট্টাকে করে গার্মেন্টস এর কাপড় দিচ্ছে এসময় হাজার হাজার রোহিঙ্গা দিকবেদিক ছুটাছুটি করছে। এসময় কথা হয় মিয়ানমারের মংডু তমবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুশুক্কুর (৪৫)এর সাথে। সে বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, দমনপীড়ন, গুলি করে নারী,পুরুষ,শিশু হত্যার কারনে জীবন বাঁচাতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে স্বপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চলে আসি। সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দীর্ঘ ৭দিন অবস্থান করার পর গত ২সেপ্টেম্বর পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করি। তিনি আরো বলেন গত ১৯দিনে মাত্র ১ বেলা খাবার খেয়েছে তাঁর পরিবার। বিতরণকৃত ত্রাণ গুলো কেউ পাচ্ছে কেউ পাচ্ছেনা বলে জানান সে। কুতুপালং রাস্তার পাশে আশ্রয় নেওয়া বয়োবৃদ্ধ রোহিঙ্গা খুইল্যা মিয়া (৭৯) জানান, তার পাশ^বর্তী যারা আছে তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মালামাল পেয়ে থাকলেও আমি এই পর্যন্ত কিছুই পাইনি।
বালূখালী এলাকার আকবর আহমদ জানান, সড়কের উপর গাড়ী থামিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ত্রাণ করার কারনে দুর্ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ১০ বছরের ২জন রোহিঙ্গা শিশু এবং শুক্রবার সকালে ২সন্তানের এক জননী মারা গেছে ত্রাণ নিতে গিয়ে। তবে তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এভাবে সড়ক যানজট সৃষ্টি করে ত্রাণ বিতরণ বন্ধের দাবী জানান আরো অনেকে।
শাহপুরী গার্ডেনের ম্যানেজার ও বালুখালী কাস্টম্স এলাকার ছৈয়দ আলম জানান, সড়কের উপর বেপরোয়া ত্রাণ বিতরণ ও মালামাল বিতরণ করার কারনে দৈনন্দিন কুতুপালং থেকে পালংখালী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে। ১০ মিনিটের সড়ক যোগাযোগ ১ঘন্টার বেশি সময় লাগে। সড়কে কোন প্রকার পুলিশ বা আইশৃংখলাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করার কথা থাকলেও প্রশাসনের দায়সারা মনোভাবে কারনে দানশীল লোকজন তাদের কট্টোল রুমে তেমন ত্রাণ জমা দিচ্ছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন, যত্রতত্র ত্রাণ বিতরণের কারনে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। আর অনেকে ত্রাণ বঞ্চিত হয়ে থাকে। ব্যক্তি বা সংগঠনের উদ্যোগে দেওয়া ত্রাণ গুলো সুস্থু ভাবে বিতরণের জন্য কুতুপালংয়ে কট্টোল রুম খোলা হয়েছে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...

জসিম উদ্দিন টিপু আজকের দেশবিদেশ পত্রিকার বর্ষ সেরা প্রতিনিধি

টেকনাফের সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপু আজকের দেশবিদেশ পত্রিকার বর্ষ সেরা প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাসহ ...
Single Page Footer